Monday, February 5, 2024

18>|| ভক্ত সম্মেলন ৮ই অক্টোবর ২০২৩, বেলঘড়িয়া মিশন

 

18>|| ভক্ত সম্মেলন ৮ই অক্টোবর ২০২৩, রবিবার।
বিবেকানন্দ শতাব্দী জয়ন্তী ভবন
রামকৃষ্ণ মিশন কলিকাতা বিদ্যার্থী আশ্রম বেলঘড়িয়া-৭০০০৫৬.

8th October 2023 Sunday,
Belghoriya Ramakrishna Mission

আজ বেলঘিরিয়া রামকৃষ্ণ মিশন স্টুডেন্ট হোমের বিবেকানন্দ শত বার্ষিকী হলে দিন ভর ঠাকুর, শ্রী শ্রী মা ও বিবেকানন্দের নানান দিকের নানান বিষয় নিয়ে অনেক সুন্দর  বক্তৃতার মাধ্যমে খুব সুন্দর জনকারী হলো।
যে সকল জ্ঞান বই পড়ে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
অনেক আলোচনার মধ্যে দুটি বিশেষ দিকের আলোক পাত আমার বেশ ভালো লাগলো। কারণ আমি বহুদিন যাবৎ এ-হেন ভাব ধারনার চিন্তায় ছিলাম,
কিন্তু কারুর নিকট সেই কথা প্রকাশ করতে পারছিলাম না ।
আজ শ্রদ্ধেয় মহারাজের মুখে শুনলাম এমন কিছু কথা, যে কথা গুলি আমার মনের অনেক চিন্তা দূর করে মনকে শান্ত করেছে।
কথা গুলো সকলেই হয়তো মানেন বা জানেন কিন্তু কতজন সেই কথার ভাব ও সত্যতা উপলব্ধি করেন সেটার বিষয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। আজ কিন্তু আমার মনের সেই সন্দেহের মেঘ কেটে গেছে।
হ্যাঁ আজ বুঝতে পারছি, যা চীর সত্য তা সকলের নিকট একদিন উদ্ভাসিত হবেই হবে। সত্য চাপা থাকতে পারে না।

শ্রদ্ধেয় মহারাজ সুন্দর করে তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রমান করে বুঝিয়ে দিলেন যে
শ্রী শ্রী মা সারদা সত্যিকারের মা কালী।
তিনিই হিমালয় পত্রি সতী, তিনি ই মা দুর্গা , মা কালী, মা সরস্বতী।
একমাত্র বিবেকানন্দ ই জ্যান্ত দুর্গার দর্শন করেছিলেন এবং সকল গুরুভাইদের মা কে প্রণাম করা শিখিয়ে ছিলেন।
তাইতো শ্রী শ্রী ঠাকুর নিজে মাকে মাতৃ রূপে পূজা করেছিলেন।
মা নিজেই স্বয়ং নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনিই মা কালী। তিনিই জগৎ জননী মা আমাদের সকলের মা। সত্যি কারের মা ।মে সেদিনও ছিলেন আজও আছেন।
আছেন আমাদের সকলের হৃদকমলে ঠাকুর ও মা উভয়েই অধিধাষ্ঠী হয়ে বসে আছেন।
আজ আমার মবের সকল দ্বিধা দূর হলো।
আজকেই আমি নিজেকে খুঁজে পেলাম।

Friday, February 2, 2024

17>|| জপ কি ?::--স্বামী বীরেশ্বরানন্দ

  17>|| জপ  কি ?::--স্বামী বীরেশ্বরানন্দ ||


জপ কি ? 

"ঈশ্বরের কোন বিশেষ মূর্তি যিনি আমার ইষ্টদেবতা তাঁর নাম বা মন্ত্র পুনঃপুনঃ আবৃত্তি করার নাম জপ।" 

মন্ত্র মানে কি ? "যা আমাদের মনকে বাইরের জগৎ থেকে টেনে এনে ভগবৎ পাদপদ্মে ধরে রাখে তাই হচ্ছে মন্ত্র।" 

আর বীজমন্ত্র হচ্ছে---"যে-মন্ত্র জপের দ্বারা অন্তরের আধ্যাত্মিক শক্তির স্ফুরণ হবে, যে শক্তির জোরে মানুষকে আস্তে আস্তে ভগদ্দর্শনের দিকে নিয়ে যাবে।"

সেইজন্য জপ করাটাই হচ্ছে মুখ্য জিনিস। জপের ভিতর যে বীজমন্ত্র তার মধ্যে তোমার সমস্ত আধ্যাত্মিক শক্তি আছে। জপ না করলে সেই শক্তির স্ফুরণ হবে না। সেইজন্য শুধু 108-বার জপ করলে কি করে এগুনো যাবে ? বেশি জপ করতে হবে। কিন্তু অনেকেরই হয়তো সংসারের নানা কাজের জন্য বেশি সময় থাকে না। তাদের জন্য বলা হয়েছে, সবসময় তোমরা মনে মনে জপ কর। তোমাদের কাজকর্মের ভিতরে মনে মনে জপ কর।

স্বামী বীরেশ্বরানন্দ


============÷÷÷÷÷÷

◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆


◆ জপ    মানে   কি ?  

ঈশ্বরের  কোন বিশেষ   মূর্তি   যিনি   আমার   ইষ্ট  দেবতা  তাঁর   নাম  বা  মন্ত্র   পুনঃ  পুনঃ   আবৃত্তি   করার   নাম  জপ ।   

◆ মন্ত্র   মানে  কি ?   

যা  আমাদের   মনকে  বাইরের   জগৎ থেকে   টেনে   এনে  ভগবৎ  পাদপদ্মে   ধরে  রাখে।  আর   বীজ  মন্ত্র   হচ্ছে   ---  যে - মন্ত্র জপের   দ্বারা   অন্তরের  আধ্যাত্মিক শক্তির  স্ফূরণ  হবে , যে  শক্তির  জোরে  মানুষকে  আস্তে   আস্তে  ভগবদ্দর্শনের  দিকে  নিয়ে যাবে।

◆ সেইজন্যই   জপ  করাটাই    হচ্ছে   মুখ্য   জিনিস ।  জপের    ভিতর  যে  বীজমন্ত্র  তার  মধ্যে  তোমার    সমস্ত  আধ্যাত্মিক  শক্তি   আছে।  জপ   না  করলে   সেই  শক্তির   স্ফূরণ   হবে  না। সেইজন্য   শুধু  ১০৮ -  বার   জপ   করলে   কি করে  এগুনো   যাবে ?   বেশি   জপ   করতে   হবে।   কিন্তু   অনেকেরই   হয়তো   সংসারের   নানা  কাজের    জন্য   বেশি   সময়  থাকে   না ।

◆ তাদের  জন্য  বলা  হয়েছে,  সবসময়  তোমরা  মনে  মনে  জপ   কর।  তোমাদের  কাজকর্মের  ভিতরে  মনে   মনে   জপ   কর। আমাদের   সংসারের   কাজকর্মের   সঙ্গে  সঙ্গে  ভগবানের  নাম  নিতে  হবে। মনে  মনে  স্মরণ করতে  হবে ।  এটা  যদি করতে   পার,  তবে  কম  সময়ের   জন্য   জপ  করলেও   পূরণ   হয়ে  যাবে।  দীক্ষা   নিয়ে   ১০৮  বার   জপ  করব,  তার   জন্য   দীক্ষা   নয়।  তোমাদের   জপ  করতে  হবে   সবসময় ।  

◆ এছাড়া  আর  একটা  জিনিস  হচ্ছে  আমরা  যতই   ধর্মজীবন  যাপন   করি ,  আমাদের   সংসারের   প্রতি  টান   থাকে।  তাহলে   বেশি   এগুনো   যাবে   না।  আমাদের    বৈরাগ্য   অবলম্বন   করতে   হবে।  বৈরাগ্য    অবলম্বন   করতে   গেলেই   প্রথমে    বিচার   করতে   হবে। বিচার   করে  আমরা    দেখব  সংসারের   কোন   কিছুই   স্থায়ী   নয়,  সবই  নশ্বর ।  অতএব  যিনি    সর্বদা   আছেন   সেই  ভগবানকে   আমাদের   পেতে   হবে।  যখন  মনে  এই ভাবটি  ওঠে , তখনই   আমাদের   ধর্ম জীবনের   পক্ষে   সুবিধা ।

◆ সংসারে  তিনটি   জিনিস   দুর্লভ  সেই  তিনটি   জিনিস   হচ্ছে  -------   মনুষ্যজন্ম , ভগবান  লাভ করার  ইচ্ছা,  আর  মহাপুরুষের সঙ্গ।  আমাদের  সকলের   মনুষ্যজন্ম   তো   হয়েছেই , আশা   করি,  আমাদের   সকলেরই   ভগবান    লাভ   করার   ইচ্ছাও  আছে।

◆ যাঁরা  মহাপুরুষের  সংস্পর্শে  আসতে  পারেননি,    তাঁরা  কথামৃত  পড়লে  ঠিক  সেই   মহাপুরুষসঙ্গ , সাধুসঙ্গ    পাবেন  ।   যদি    ধীর   ভাবে   কেউ   কথামৃত  পড়ে  কোন   একটা  দিনের   ঘটনাকে  ধ্যান   করে ,  তবে   সে   ঠিক  দক্ষিণেশ্বরে   চলে    যাবে   ঠাকুরের  ঘরে  ,   আর ধ্যানে   বসে  সে   ঠাকুরের  কথাই   শুনবে। ঠিক  এইভাবে   চিন্তা   করতে  হবে। এই  ভাবে  যদি  হয় তবেই       সাধুসঙ্গ  হয়ে   গেল।

◆ রাজা   মহারাজ   বলতেন  "তোমাদের  এক   কথায়   ব্রহ্মজ্ঞান   দিচ্ছি   আমি।   রোজ  কথামৃত    পড়লে   সংসারের   যা   ঝামেলা,  সংসারের    দিকে    আসক্তি,  এসব   আস্তে  আস্তে   কমে   যাবে।  আর  ভগবানলাভের   জন্য   মনে   খুব    তীব্র   ইচ্ছা   হবে ।" 

                 

            ~ স্বামী বীরেশ্বরানন্দ মহারাজ।

     [ দশম সংঙ্ঘাধ্যক্ষ্য রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ]