Thursday, November 21, 2024

24>|| মুখমণ্ডলে দীপ্তির প্রকাশ ||

    24>|| মুখমণ্ডলে দীপ্তির প্রকাশ ||


মঠ মিশনের  মহারাজদের মুখন্ডল দেখলেই মনে হয় যেন জ্যোতি ঠিকরে পড়ছে।

সত্যি বলছি দেখেছিস প্রত্যেক মহারাজের কি গ্ল্যামার ! দেখলেই ভক্তি করতে ইচ্চা করে। সদা হাস্য মুখ , কথা বার্তা তে যেন মুক্তা ঝরে।



প্রশ্ন এসে যায়, বেশিরভাগ রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের মুখমণ্ডল কেন এত জ্যোতির্ময় হয় ? সে বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মহারাজ শোনাচ্ছিলেন এক মা এবং তার যুবক ছেলের গল্প, যারা মনে করেন ফ্রিতে দুধ আর ফল পেলে মুখের গ্ল্যামার ধরে রাখা যায়।


স্বামী অন্নপূর্ণানন্দ বললেন – “ সেই ছোকরাকে বললাম, আয় তোকে ফ্রিতে দুধ আর ফল খাওয়াবো, রামকৃষ্ণ মিশনে থাকবি আয় ।“


সে শুনে মা ছেলে পেছন ঘুরে দৌড়।

আমরা সকলেই হেসে উঠলাম, আর যাই হোক ঘর সংসার ছেড়ে মহারাজ চাট্টিখানি কথা নয়।

ব্যাপারটা আপাতদৃষ্টিতে হাস্যাস্পদ শোনালেও প্রশ্নটা থেকেই যায়, মহারাজদের জ্যোতির রহস্য কি ?


এই জ্যোতি বেলুড় মঠের বিদ্যামন্দিরেও চোখে পড়েছে। মাইন্ডস্ট্রোলজি এবং রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির আয়োজিত ডিজিটাল মিডিয়া কোর্সের জন্য বেশ কয়েকবার বেলুড় মঠ যেতে হয়েছে।এখানে প্রত্যক্ষ করেছি তাদের মুখমণ্ডলের জ্যোতি, চির যৌবনের তেজ এবং দীপ্তি। বিশেষত দেবর্ষি মহারাজের কথা না বললেই নয় । তাদের কর্মব্যস্ততা দেখে কখনোই মনে হয়নি যে কর্পোরেট লিডারদের চেয়ে কোন অংশে তারা কম কাজ করেন কিংবা তাদের কাজের চাপ কম। তাদের খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত সাধারণ এবং সীমিত।

তাহলে কি সংযত আহারই আমাদের শরীরে দীপ্তি আনে? নাকি সাংসারিক টানা পড়েন আমাদের আপাত বার্ধক্যের দিকে নিয়ে যায়? দুশ্চিন্তার ভাঁজ কি আমাদের কপালে বলিরেখা তৈরি করে ?

এগুলোর কোন বাক্যই অস্বীকার করা যায় না, তথাপি জ্যোতি রহস্য নিরুত্তর থেকে যায়।

আর এই সুযোগে ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।ল্যাকমি প্রোডাক্ট আসে প্রত্যেক ঘরে ঘরে ।সেই আপাত উজ্জ্বল্যকে উপেক্ষা করে কিছুদিনের মধ্যেই প্রকৃত স্বরূপের বহিঃপ্রকাশ হয়।


★★★

অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে আমরা যতই চেষ্টা করি , শারীরিক উজ্জ্বল্য পেতে অভ্যন্তরীণ বিকাশ অপরিহার্য। মানসিক বিকাশ, অবচেতনের সেই স্তর করায়ত্ব না হলে সেই জ্যোতির প্রকাশ ঘটে না।

অভ্যন্তরীণ বিকাশের যে দশটি গুণ বারংবার সাক্ষাতে আমি মহারাজের মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছি, তা সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করলাম।


১) এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়াই বিশ্রাম। নিজেকে ব্যস্ত রাখা এবং নিজের মন যা চায় সে নিয়ে আমৃত্যু কাজ করাই জীবনের সুখী হওয়ার মন্ত্র। মনে রাখবেন, অলস মস্তিষ্ক আসলে শয়তানের কারখানা।


২)সারল্য - কোন ছেলের সঙ্গে কেবলমাত্র স্নেহ বাৎসল্য নয়, শিশুদের মত সরলতা নিয়ে মিশে যাওয়া এক বিশাল বড় গুণ। মনে রাখবেন জটিলতা অনেক সময় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে, যেটাকে অবচেতনের ভাষায় বলে মেন্টাল ব্লক, আর সারল্য ধারণ করে অনেক ক্ষমতা, অসীমকে জয় করার দুঃসাহস।জীবন হয়ে ওঠে আনন্দময়।


৩) অন্যের জন্য কাজ করাতেই সবচেয়ে বড় সুখ। আপনি যতই নিজের ব্যাপারে ভাববেন, ততই মায়া জালে জড়িয়ে যাবেন। অন্যের থেকে আশা আপনাকে কষ্ট দেয়, অন্যকে সাহায্য করা আপনাকে আনন্দ দেয়। আমরা বাস্তবে ঠিক উল্টোটি করি।


৪) জীবনের বেশিরভাগ সুখী হওয়ার উপাদান ফ্রি। মুক্ত মনে হাসা, অন্যকে ভালোবাসা, প্রকৃতির মধ্যে থাকা, অন্যকে ভাল রাখা, সবই বিনামূল্যে করা যায়। তাই আপনার সুখী হওয়ার জন্য অর্থ লাগেনা।


৫) নিরন্তর শিখে যাও। শিক্ষার চর্চা, আমাদের ব্রেনকে অবচেতনের নতুন স্তরে উন্নীত করে। প্রত্যেকটি মহারাজ দিনে কোন না কোন সময় পঠন পাঠন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।


৬) ধ্যান বা সূর্য প্রণাম - মনকে স্থির করতে, কিংবা নিজের অবচেতনকে সংযত রাখতে এর চেয়ে বড় শক্তি নেই। বেলুড় মঠে ঘন্টার পর ঘন্টা আরতি প্রকারান্তরে একটা ধ্যানেরই রূপক।


৭) সর্বদা ইতিবাচক - এটি একটি বিশাল বড় গুন।এই পৃথিবীতে খুব কম লোকের মধ্যে এই গুনটি দেখেছি। আমাদের চিন্তার শতকরা ৭৮ ভাগ নেতিবাচক। রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের ডোনেশন অনেকাংশে কম করেছে, অথচ হা হুতাশ না করে, বিকল্প সমাধানের পথ খুঁজতে মহারাজরা বদ্ধপরিকর।


৮) অহেতুক পারস্পরিক তুলনা আমাদেরকে নেতিবাচক চিন্তায় নিয়ে যায়, এটা মহারাজদের কোনদিন করতে দেখিনি।


৯) কৃতজ্ঞতা - ওনারা যার যার প্রতি কৃতজ্ঞ , উন্মুক্তচিত্তে স্বীকার করেন। কৃতজ্ঞতার চেয়ে বড় থেরাপি এই মহাবিশ্বে দ্বিতীয়টি নেই I  সদ্য তৈরি হওয়া নিউটাউনের বিবেক তীর্থের জন্য শ্রী দেবাশীষ সেন এবং HIDCOর প্রতি তারা অসীম কৃতজ্ঞ I ধন্যবাদ জ্ঞাপনে  কখনো পিছপা হতে দেখিনি মহারাজদের । স্বয়ং শ্রী রামকৃষ্ণ বলেছেন -  "মন কে শান্ত করতে হলে, তোমার কাছে যা আছে তার জন্য ঈশ্বর কে মন থেকে ধন্যবাদ জানাও, তার সাথে প্রেমের বন্ধন তৈরি কর দেখবে মনের অশান্তি কোথায় হারিয়ে গেছে।" 


১০) আপনি আপনার চিন্তার মতন বড়। আপনি এই বিশ্বকে যত ভালো ভাবেন, আপনার মস্তিষ্ক ততখানি উন্নত । মুখমণ্ডল কেবল তার বহিঃপ্রকাশ। কারো প্রতি ঘৃণা নয়, কেবল ভালোবাসা, কারো কাছে ঠকে যাওয়ার ভয় নয়, তাকে অকৃত্রিমভাবে সাহায্য করা, অমলিন চিত্তে ঠাকুর আর  স্বামীজীর প্রার্থনা করা, তাদের বাণী বারংবার উচ্চারিত করলে অবচেতন ঐশ্বরিক মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তার দীপ্তি মুখমণ্ডলে প্রকাশ পায়।


মহারাজদের জীবন প্রমাণ করে মানব জীবন আনন্দময়।

নিরলস শ্রম, অকৃত্রিম জীবে প্রেম, অদ্বৈত রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সাধনা, অকুণ্ঠ জ্ঞানপিপাসা, সর্বদাই পৃথিবীকে বাসযোগ্য ভাবা, হাস্যকৌতুক এবং আনন্দের মধ্যে দিয়ে জীবনের রস গুলোকে উপভোগ করা। আর যখন কঠিন পরিস্থিতি আসবে  সুচিন্তার মাধ্যমে নেতিবাচক শক্তিদের পরাস্ত করে  আপনিও জ্যোতির্ময় হবেন। 


সৌজন্যে : মাইন্ডস্ট্রোলজি


Collected From Swami Sarvapriyananda Maharaj speech

                (সংগৃহীত)

============================

Sunday, August 25, 2024

23>|| ভক্তির শক্তি ||

  23/1>|| ভক্তির শক্তি  ||

        <----আদ্যনাথ----->

ভক্তির শক্তির অমোঘ টান,

ভক্তির শক্তিতে পাল্টে যায় মান।

ভক্তির শক্তিতে ব্রহ্ম সাকার ও নিরাকার,

ভক্তির শক্তিতে মৃন্ময় হয়ে ওঠে চিন্ময়,

ভক্তির শক্তিতে অন্ন হয় ওঠে প্রসাদ,

ভক্তির আত্মনিবেদনে ক্ষুধার নাম হয় ব্রত,

ভক্তির শক্তিতে জল হয় চরনামৃত,

ভক্তির রসে সংগীত হয় ভক্তিসংগীত।

ভক্তির আকর্ষণের যাত্রাই তীর্থ যাত্রা,

ভক্তির প্রভাবে ঘর হয় মন্দির।

ভক্তির শক্তিতে শিক্ষা হয় জ্ঞান,

ভক্তির শক্তিতে প্রকৃতি  বিজ্ঞান,

ভক্তির শক্তিতে সাধক হয় নির্মল মুক্ত সদানন্দ।

ভক্তির শক্তিতে  বাড়ে চেতনা,

ভক্তির শক্তিতে দূর হয় সকল কামনা,

ভক্তির শক্তিতে দূর হয় মনের বাসনা,

ভক্তির শক্তিতে বাড়ে আত্মবিশ্বাস,

ভক্তির শক্তিতে মনহয় অভয় বাড়ন্ত আশ্বাস,

ভক্তির শক্তিতে মন হয় বিশুদ্ধ উদার,

ভক্তির শক্তিতে মিটেযায় "আমি,আমার",

ভক্তির শক্তিতে করুনাই সৃষ্টির আঁধার,

ভক্তির শক্তির টানে দুরত্ব হয় নিকট ,

ভক্তির শক্তিতে মানুষ হয়ে ওঠে ঈশ্বর,

ভক্তির শক্তিতে জীবে প্রেম বাড়ে নিরন্তর,

ভক্তির শক্তিই সর্বশক্তি জগৎ সংসারে,

ভক্তির শক্তিই আনন্দস্বরূপ ঐশ্বর্য,

ভক্তির শক্তিই 'মা' এর চরণ বন্দনা,

ভক্তির শক্তিই সার্বিক উন্নতির ব্যঞ্জনা,

ভক্তির শক্তি বিহীন হয়না শুভ পরিকল্পনা।

ভক্তির শক্তিই মোক্ষ লাভের কল্পনা,

ভক্তিরই প্রকৃত জ্ঞান লাভের সম্ভবনা।

ভক্তি বিহনে হয়না কোন মহৎ কর্ম যোজন।

ভক্তিতে বাড়ে জ্ঞান,ও জ্ঞানে প্রজ্ঞা

ভক্তি,জ্ঞান ও প্রজ্ঞা একে অপরের পরিপূরক,

ভক্তির উর্দ্ধে পরা ভক্তি ভজন সাধন,

ভক্তির শক্তি  পরাভক্তিই জ্ঞানের আধান,

ভক্তির শক্তি নির্মল সুন্দর সর্বশক্তিমান।

  <--------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>

         23:08;2024;; 11:32:40

===========================


  23/2>|| ভক্তির শক্তি  || 

(আধ্যানত্মিক 10/23)

        <----আদ্যনাথ----->

ভক্তির শক্তিতে বাড়ে অমোঘ শক্তির টান,

ভক্তির শক্তিতে বাড়ে সাধ্য সাধকের জ্ঞান।

ভক্তির শক্তিতে সাকার নিরাকারে হয় লয়,

ভক্তির শক্তিতে মৃন্ময় হয়ে ওঠে চিন্ময়।


ভক্তির শক্তিতে অন্নভোগ হয় প্রসাদ,

ভক্তির শক্তিতে আত্মনিবেদনের নাম ব্রত,

ভক্তির শক্তিতে জল হয় শুদ্ধ পবিত্র,

ভক্তির শক্তিতে সংগীত হয় ভক্তিসংগীত।


ভক্তির আকর্ষণের যাত্রাই তীর্থ যাত্রা,

ভক্তি ও নিষ্ঠার প্রভাবে ঘর হয় মন্দির।

ভক্তির শক্তিতে শিক্ষা হয় জ্ঞান,

ভক্তির শক্তিতে সমগ্র প্রকৃতিই বিজ্ঞান।


ভক্তির শক্তিতে সাধক হয় নির্মল মুক্ত সদানন্দ।

ভক্তির শক্তিতে ক্রমেই বাড়ে চেতনা,

ভক্তির শক্তিতে দূর হয় মনের সকল কামনা,

ভক্তির শক্তিতে দূর হয় মনের সকল বাসনা।


ভক্তির শক্তিতে বাড়ে আত্মবিশ্বাস,

ভক্তির শক্তিতে মনহয় দৃঢ়অভয় বাড়ন্ত আশ্বাস,

ভক্তির শক্তিতে মন হয় শান্ত বিশুদ্ধ উদার,

ভক্তির শক্তিতে মিটেযায় ভাবনার "আমি আমার"।


ভক্তির শক্তিতে করুনাই সৃষ্টির আঁধার,

ভক্তির শক্তির টানে দুরত্ব হয় নিকট ,

ভক্তির শক্তিতে মানুষ হয়ে ওঠে ঈশ্বর,

ভক্তির শক্তিতে জীবে প্রেম বাড়ে নিরন্তর।


ভক্তির শক্তিই সর্বশক্তি জগৎ সংসারে,

ভক্তির শক্তিই আনন্দস্বরূপ ঐশ্বর্য,

ভক্তির শক্তিই 'মা' এর চরণ বন্দনা,

ভক্তির শক্তিই সার্বিক উন্নতির কামনা।


ভক্তির শক্তি বিহীন হয়না শুভ পরিকল্পনা,

ভক্তির শক্তিই মোক্ষ লাভের গুহ্যকল্পনা,

ভক্তির শক্তিই প্রকৃত জ্ঞান লাভের সূচনা,

ভক্তির শক্তি ছাড়া হয়না কোন মহৎ কর্ম যোজনা।


ভক্তির শক্তিতে তে বাড়ে জ্ঞান,ও জ্ঞানে বাড়ে প্রজ্ঞা,

ভক্তির শক্তিতেই অনুভব হয় সৃষ্টির আজ্ঞা, 

ভক্তির উর্দ্ধে পরা ভক্তি ভজন সাধন,

ভক্তির শক্তিই পরাভক্তি ও জ্ঞানের আধান।


ভক্তির শক্তি নির্মল সুন্দর সর্বশক্তিমান,

ভক্তির শক্তিতেই সাধক পায় ঈশ্বরের মান,

ভক্তির শক্তিতেই  হয় সৃষ্টির কল্যাণ,

ভক্তির শক্তিতেই সম্ভব বিশ্ব প্রকৃতির সত্য সন্ধান।

  <--------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>


         23:08;2024;; 11:32:40


===========================



22>রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতীকটির অর্থ ।

 22>রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতীকটির অর্থ । 

প্রতীক বা  emblem এর অর্থ, সেই সংঘের উদ্দেশ্য কে মানুষের কাছে তুলে ধরে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রতীকটি নিজের হাতে এঁকেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ এমেরিকায় এক হোটেল বসে।  হোটেলের টিস্যু পেপারে।

যার সম্পুর্ন অর্থ এমন::---


      স্বামী বিবেকানন্দ উদ্ভাবিত

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতীক::----

তরঙ্গায়িত বিশাল জলরাশি (যেমন সমুদ্রের জলরাশি) মাঝে প্রস্ফুটিত পদ্মফুল,উদীয়মান সূর্য,সমস্ত কিছু সর্পবেষ্টনী।

   প্রতীক চিহ্নের নিচ অংশে লেখা আছে

     ( तन्नोहंसः प्रचोदयात )


প্রতীকের অর্থ::----

চিত্রস্থ তরঙ্গায়িত সলিলরাশি-কর্মের, কমল- ভক্তির এবং উদীয়মান সূর্যটি-জ্ঞানের প্রকাশ। চিত্রগত সর্পবেষ্টনটি -যোগ এবং জাগ্রতা কুণ্ডলিনীশক্তির পরিচায়ক। আর চিত্রমধ্যস্থ হংস প্রতিকৃতিটির অর্থ পরমাত্মা। অতএব কর্ম, ভক্তি, জ্ঞান ও যোগের সহিত সম্মিলিত হলেই পরমাত্মার সন্দর্শন লাভ হয়-চিত্রের ইহাই অর্থ।

=====================

★★>তরঙ্গায়িত জল কর্মের প্রতীক ★★>প্রস্ফুটিত পদ্ম ভক্তির প্রতীক

★★>উদিয়মান সূর্য্য জ্ঞানের প্রতীক

★★>সাপ যোগ ও কুন্ডলিনী শক্তি জাগরণের প্রতীক

★★>রাজহাঁস (পরমহংস) পরমাত্মার প্রতীক

পঞ্চভূতে সমাহিত,যোগাসাধনার মহা শক্তি

কর্ম, ভক্তি, জ্ঞানের মাধ্যমে পরমাত্মাকে লাভ করা।

কর্ম, ভক্তি, জ্ঞানই জীবনের প্রথম ও শেষ কর্তব্য।

প্রতীকটি ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে ও বোঝা যাবে প্রতীক টির অন্তর্নিহিত অর্থ। যেটি মনদিয়ে একবার দেখলেই সর্বক্ষনের জন্য মনে গেঁথে রবে।

একটু চিন্তা করতে চাইলেই চোখের সামনে উদিত সূর্যের ন্যায় জ্বল জ্বল করে ফুটে উঠবে অপূর্ব এই প্রতীক চিহ্ন যেটি 

রামকৃষ্ণ  মঠ ও মিশনের প্রতীক,

সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের এই অত্যাশ্চর্য প্রতীক।

যে প্রতীকের ব্যাখ্যা করার সাহস তিনিই করতে পারেন যিনি বেদ বেদান্ত ও সকল শাস্ত্র বিশারদ এবং সর্ব ধর্মের প্রতি সমভাবাপন্ন।

<------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

        22/08/2024;;;01:34:12

               

===========================



Friday, May 31, 2024

21>|| শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সংহতির প্রতীক,

 21>|| শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সংহতির প্রতীক,

তাঁর মন ও হৃদয় সর্ব ধর্মের মিলন ভূমি।

তিনিই দেখিয়েছেন অমৃত লাভের পথ,

যে পথে মানুষ জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান "অমৃতের জন্তান" রূপে নিজেকে প্রকাশ করতে সক্ষ্যম হয়।

ঠাকুর বলতেন যেন তেন প্রকারে ঈশ্বরেকে লাভ করো। ভগবান কে লাভ করাই মানুষের শ্রেষ্ঠ পথ।

নিজের অন্তঃ পুরের খোঁজ করা একান্ত কর্তব্য। মানুষের অন্তরেই রয়েছে সপ্ত সাগর ●1-জ্ঞান,●2-প্রেম,●3-পবিত্রতা, ●4-মৈত্রী ●5-সৌহাদ্য, ●6-ঐক্য ও ●7-উদারতা।

এই সপ্ত সাগরের খোঁজ করতে পারলেই মানুষ ক্রমে হয়ে ওঠে "মানহুঁশ" অর্থাৎ "হুঁশ"-যুক্ত "মানুষ", অর্থাৎ চৈতন্য যুক্ত মানুষ।

তবে এমন প্রকারে লাভ না করতে পারলে মানুষ ক্রমে অসৎ ও স্বার্থপরতার দিকে এগিয়ে যায়। নীতিহীন হয়ে সমাজসভ্যতার পক্ষে অশনিসঙ্কেত ডেকে আনে।

মানুষ যে কত সুন্দর ও শাশ্বত হতে পারে তার প্রকৃত উদাহরণ ঠাকুর নিজে।

ঠাকুর বুঝিয়ে দিয়েগেছেন মানুষের লক্ষ্য কী। সভ্যতা তথা সমাজের লক্ষ্য কী, প্রকৃত আনন্দ কী, মানুষ কীভাবে উপভোগ করতে পারে প্রকৃত আনন্দ।

 "যত মত  তত পথ"--->

প্রত্যেক সাধককে তার নিজের সাধন পথ নিজেকে খুঁজে নিতে হয়। শাস্ত্র, ধর্মগ্রন্থ, সাধুসন্তরা কিছুটা সাহায্য করতে পারেন, কিন্তু নিজের পথ নির্বাচন নিজেকেই করতেহয়।

সেইক্ষেত্রে নিজের পাপকর্মের অনুশোচনা

করার থেকে নিজের শুদ্ধ-বুদ্ধ-মুক্ত-আত্মস্বরূপের চিন্তা করা অনেক বেশি কল্যাণ কারী।

সংসার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সংসার ত্যাগ করার দরকার হয় না। বরঞ্চ সংসারে থেকেই ঈশ্বর চিন্তা করে  যদি মনকে ভগবন্মুখী করা যায় তবে সংসারে আসক্তি আপনা থেকেই কমতে থাকে।

সাধন পথে বাধাবিপত্তি আসবেই তবে সেগুলির বেশি গুরুত্ব না দেওয়াই শ্রেয়।

ক্রমাগত ভগবানের কথা চিন্তা করতে করতে বাধাগুলো আপনা থেকেই দূর হয়ে যায়। জোড়করে দূর করতে হয় না বা উচিতও নয়।

========================

আসলে সৎ--চিৎ--আনন্দ, অস্তি--ভাতি--প্রিয়, বা সত্যম--শিবম--সুন্দরম একই সত্তার তিনটি বভিন্ন দিক। একে অপরের থেকে পৃথক নয়। শব্দের ব্যবহার ভেদে এদের প্রথক বলে মনে হয়। যা জ্ঞান তা-ই আনন্দ, আর যা নিত্য তাও আনন্দ, এই তিনটিই আমাদের আত্মার যথার্থ স্বরূপ, নিজের আত্মাস্বরূপ, আনন্দময় স্বরূপের সাক্ষাৎ করাই জীবনের লক্ষ্য, এই উপলব্ধি ব্যতীত শাশ্বত সুখ বা শান্তিলাভ সম্ভব নয়।


Saturday, March 16, 2024

20>|| নয়(9)টি মঠে পূর্ন সার্কিট::--

 

20>|| নয়(9)টি মঠে পূর্ন সার্কিট::--
রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনে দক্ষিনেশ্বরের সংযোজন হল অভূত পূর্ব সংযোজন রসমকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দ এহেন সংযোজনকে সামগ্রিক ভাবে "রসমকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সার্কিট" হিসাবে বর্ননা করেন।
তিনি জানান সার্কিটের শুরু স্বামী বিবেকানন্দের বসত বাড়ি থেকে , এর পর কথামৃত ভবন, বলরাম মন্দির, বাগবাজার মায়েরবাড়ি, কাশিপুর মঠ, নরানগর মঠ, আলমবাজার ও দক্ষিনেশ্বর মঠ, এবং সর্বশেষ বেলুড় মঠ। এই নয়(9) মঠে পূর্ন "রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ" সার্কিট।

★★বর্তমানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মোট শাখা ভারতে =273 টি
সমগ্র বিশ্বে মোট শাখা= 326 টি

====================
●●1> রামকৃষ্ণ মিশন স্বামী বিবেকানন্দের পৈতৃক বাসভবন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হল একটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

105, Vivekananda Rd, Manicktala, Azad Hind Bag, Kolkata, West Bengal 700006

  ৩, নম্বর গৌরমোহন মুখোপাধ্যায় স্ট্রিট
   কলিকাতা:--700006

  ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ জানুয়ারি এই বাড়িতেই স্বামী বিবেকানন্দ (পূর্বাশ্রমের নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত) জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
===============
●●2>কথামৃত ভবন::---
   14,Guru Prasad Chowdhury Lane
    Jhamapukur, kolkata:-700006
  Ph::--89025 53411
           79803 91808.
   House of Mahendra Nath Gupta
      alias  "M" / "ম"
====================
●●3>বলরাম মঠ::--
রামকৃষ্ণ বলরাম মঠ::-- 7, Birodh Ave.
   Sovabazar, Baghbazar,
   Kolkata:-700003
  Ph::-- 033-2554 5006
balaram. mandir @rkmm.org.
The House of Balaram Basu.
==================
●●4>বাগবাজার মায়ের বাড়ি::--
Baghbazar, Kolkata:-700003
=======================
●●5>কাশিপুর মঠ::--
   90, Cossipore Rd, CIT, Cossipore, Kolkata, West Bengal 700002
রামকৃষ্ণ মঠ (কাশীপুর উদ্যানবাটি),
কলকাতা

=======================
●●6>রামকৃষ্ণ মঠ নরানগর::--
   125/1, Pramanik Ghat Road,
     Kolkata::--700036
     4:30am---11:30 am
     4.00pm --06:00pm
====================
●●7>আলমবাজার মঠ::--
   60/1, Ram Chandra Bagchi Ln, Tantipara, Alambazar, Ariadaha, Baranagar, West Bengal 700035
কাশীপুরের বাগানবাড়িতে ১৮৮৬ সালে শ্রীরামকৃষ্ণের দেহাবসানের পর বরাহনগর মঠে সঙ্ঘটিত হয়েছিল মঠের বিকাশের দ্বিতীয় পর্যায়। তৃতীয় পর্যায় শুরু হয় আলমবাজার মঠে। চতুর্থ পর্যায়ে বেলুড়ের গঙ্গার ধারে নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে মঠ উঠে আসে। শেষে স্থায়ী রূপে বর্তমান বেলুড় মঠে স্থাপিত হয় শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ।

  স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯০ সালে বরাহনগর মঠ থেকে পরিব্রাজক রূপে বের হন। ১৮৯৭ সালে বিশ্ব জয় করে বিবেকানন্দ আসেন আলমবাজার মঠে। শ্রীরামকৃষ্ণের সমস্ত সন্ন্যাসী শিষ্যের পদধূলিধন্য এই আলমবাজার মঠ। আলমবাজার মঠেই নিজেদের আধ্যাত্মিক মুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয় সঙ্ঘভাবনা এবং সঙ্ঘের মাধ্যমে নরনারায়ণের সেবা। মঠ পরিচালনার জন্য একগুচ্ছ নিয়মাবলী রচনা করেন স্বামীজি।
==========================
●●8>দক্ষিনেশ্বর মঠ::--

Kali Temple, 22, Tarak Nath Biswas Road, Second Gate, near Dakshineshwar

=================
●●9>বেলুড় মঠ::--
Belur, Howrah, 711202 W.B.

===================

Friday, March 15, 2024

19>|| দক্ষিণেশ্বরে ও রামকৃষ্ণ মঠ।

 19>|| দক্ষিণেশ্বরে ও এবার রামকৃষ্ণ মঠ।


রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন::--


দক্ষিনেশ্বরের মঠ নিয়ে দেশের 273 তম কেন্দ্র এবং বিশ্বের 326 তম শাখা কেন্দ্র হচ্ছে এই দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ মঠ।

রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনে দক্ষিণেশ্বরের সংযোজন হল এক অভূতপূর্ব সংযোজন।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দ,  এহেন সংযোজনকে সামগ্রিক ভাবে

"রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সার্কিট" হিসাবে বর্ননা করেন।

তিনি জানান , সার্কিটের  শুরু স্বামী বিবেকানন্দের বসতবাড়ি থেকে। এর পরে কথামৃত ভবন, বলরাম মন্দির,বাগবাজার মায়ের বাড়ি, কাশিপুর মঠ, বরাহনগর মঠ, আলমবাজার ও দক্ষিণেশ্বর মঠ এবং সর্বশেষে বেলুড় মঠ। ( 


দক্ষিনেশ্বরের মঠে এখন পর্যন্ত 10 কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আগামী দু- বছরের মধ্যে দোতলা মন্দির তৈরির কাজ শেষ হবে।

একতালায় থাকবে বড় হলঘর, দোতলায় শ্রী রামকৃষ্ণের মর্মর মূর্তি-সহ মন্দির।

আনন্দ বাজার পত্রিকা কলকাতা 14/09/2023 বৃহস্পতিবার।


 {★★রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন গতবৎসর অর্থাৎ 2022 তে 125 বৎসর পূর্ন হয়েছে।


★★"মানুষের অন্তর্নিহিত পূর্নতার বিকাশই হল শিক্ষা", বলতেন স্বামী বিবেকানন্দ।

তাঁর সেই ভাবনাকে রূপ দেওয়ার কাজে ব্রতী রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন,গত বৎসর 125 বৎসর পূর্ন হয়েছে সঙ্ঘের।}■■■



ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব প্রায় 30 বৎসর ছিলেন দক্ষিনেস্বরের 

রানী রাসমণির  মন্দিরে।

এবার এই দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের নামাঙ্কিত 

মঠ গড়ে উঠবে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বয়ংসম্পূর্ণ শাখা কেন্দ্র " রামকৃষ্ণ মঠ, দক্ষিণেশ্বর"।

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পিছন দিকে জননী সারদা সরণিতে দোতলা একটি বাড়ি 2010 সালে বেলুড় মঠকে দান করেছিলেন চণ্ডীদাস বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি । তাঁর মৃত্যুর পরে মঠ বাড়িটি অধিগ্রহণ করে এবং সেখানে সন্ন্যাসীদের সাধন-ভজনের ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের মানচিত্রে একটি "সার্কিট" সম্পুর্ন করতে দক্ষিনেশ্বরে

মঠ তৈরির পরিকল্পনা করেন কর্তৃপক্ষ।

সেই মতো 2018 সালে ওই বাড়ি সংলগ্ন জমি প্রায় সাড়ে 6 কোটি টাকা দিয়ে কেন হয়। এর পরে দেবাশীস গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি নিজের পৈতৃক বাড়িটি দান করেন মঠকে। পাশাপাশি আরও কিছু জমি বাড়ি কেনা হয়।ওই সমস্ত বাড়ি সংস্কার করে, রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয়ের তত্বাবধানে প্রথমে একটি উপকেন্দ্র তৈরি করা হয়। সেখান থেকেই পূর্ণাঙ্গ মঠ তৈরির পদক্ষেপ শুরু হয়।

13/09/2023  বুধবার স্বামী অদ্বৈতানন্দের জম্নতিথিতে দক্ষিনেশ্বরের মঠে প্রস্তাবিত শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের অধ্যক্ষ স্বামী স্মরণানন্দ।

পূজা-অর্চনার মধ্যে দিয়ে সেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন মঠ ও মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বামী 

গিরিশানন্দ , সাধারণ সম্পাদক স্বামী 

সুবীরানন্দ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বলভদ্রানন্দ ও স্বামী বোধসরানন্দ।

ছিলেন ব্যারাকপুরের নগরপাল আলোক রাজোরিয়া ও কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা।


এদিন স্বামী সুবীরানন্দ বলেন,

"রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনে দক্ষিণেশ্বর ও আলমবাজার হল অভূতপূর্ব সংযোজন।

যেটিকে সামগ্রিক ভাবে বলা চলে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সার্কিট" তিনি জানান , সার্কিটের  শুরু স্বামী বিবেকানন্দের বসতবাড়ি থেকে। এর পরে কথামৃত ভবন,

বলরাম মন্দির, বাগবাজার মায়ের বাড়ি, কাশিপুর মঠ, বরাহনগর মঠ, আলমবাজার ও দক্ষিণেশ্বর মঠ এবং সর্বশেষে বেলুড় মঠ।



এদিন সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন,  01/10/2023  এর 1 অক্টোবর থেকে দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ মঠ স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা কেন্দ্র হিসাবে কাজ শুরু করবে। যার প্রথম অধ্যক্ষ করা হয়েছে স্বামী ঈশব্রতানন্দকে। তিনি আরও জানান , দেশের ২৭৩তম  কেন্দ্র এবং বিশ্বের ৩২৬তম শাখা কেন্দ্র হচ্ছে এই দক্ষিণেশ্বর মঠ।

====================_


রামকৃষ্ণ  মঠ ও মিশন হল একটি ভারতীয় ধর্মীয় সংগঠন। এই সংগঠন রামকৃষ্ণ আন্দোলন বা বেদান্ত আন্দোলন নামক বিশ্বব্যাপী আধ্যাত্মিক আন্দোলনের প্রধান প্রবক্তা। এটি একটি জনকল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ১৮৯৭ সালের ১ মে রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। মিশন স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণকার্য, গ্রামোন্নয়ন, আদিবাসী কল্যাণ, বুনিয়াদি ও উচ্চশিক্ষা এবং সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণকরেছে। এটি শতাধিক সংঘবদ্ধ সন্ন্যাসী ও সহস্রাধিক গৃহস্থ শিষ্যের একটি যৌথ উদ্যোগ। রামকৃষ্ণ মিশন কর্মযোগের ভিত্তিতে কাজকর্ম চালায়।


"আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ" — "আত্মার মোক্ষ ও জগতের কল্যাণের নিমিত্ত" 

সংস্কৃত: आत्मनो मोक्षार्थं जगद्धिताय च

১ মে ১৮৯৭; ১২৬ বছর আগে কলকাতা,


উদ্দেশ্য::--শিক্ষাবিস্তার, মানবসেবা, ধর্মীয় গবেষণা, আধ্যাত্মিকতা ইত‍্যাদি

সদরদপ্তর বেলুড় মঠ, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

অবস্থান::--

স্থানাঙ্ক:--২২.৩৭° উত্তর ৮৮.২১° পূর্ব

সংঘাধ্যক্ষ 

স্বামী স্মরণান্দজী



রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার নিকটবর্তী হাওড়া জেলায় বেলুর মঠে অবস্থিত। এই সংগঠন প্রাচীন হিন্দু দর্শন বেদান্তের অনুগামী। এটি সন্ন্যাসী সংগঠন রামকৃষ্ণ মঠ কর্তৃক অনুমোদিত। রামকৃষ্ণ মঠের সদস্যরা রামকৃষ্ণ মিশনেরও সদস্য।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ গণ


স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৯৭–১৯০২) (সাধারণ অধ্যক্ষ)

১৯০১ সালের পর ‘সাধারণ অধ্যক্ষ’ শব্দবন্ধটি পরিত্যক্ত হয় এবং ‘অধ্যক্ষ’ শব্দটি গৃহীত হয়।


স্বামী ব্রহ্মানন্দ (১৯০১-১৯২২)

স্বামী শিবানন্দ (১৯২২-১৯৩৪)

স্বামী অখণ্ডানন্দ (১৯৩৪-১৯৩৭)

স্বামী বিজ্ঞানানন্দ (১৯৩৭-১৯৩৮)

স্বামী শুদ্ধানন্দ (১৯৩৮-১৯৩৮)

স্বামী বিরজানন্দ (১৯৩৮-১৯৫১)

স্বামী শঙ্করানন্দ (১৯৫১-১৯৬২)

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ (১৯৬২-১৯৬২)

স্বামী মাধবানন্দ (১৯৬২-১৯৬৫)

স্বামী বীরেশ্বরানন্দ (১৯৬৬-১৯৮৫)

স্বামী গম্ভীরানন্দ (১৯৮৫-১৯৮৮)

স্বামী ভূতেশানন্দ (১৯৮৯-১৯৯৮)

স্বামী রঙ্গনাথানন্দ (১৯৯৮-২০০৫)

স্বামী গহনানন্দ (২০০৫-২০০৭)

স্বামী আত্মস্থানন্দ (২০০৭–২০১৭)

স্বামী স্মরণানন্দ (২০১৭–)

=========================



Monday, February 5, 2024

18>|| ভক্ত সম্মেলন ৮ই অক্টোবর ২০২৩, বেলঘড়িয়া মিশন

 

18>|| ভক্ত সম্মেলন ৮ই অক্টোবর ২০২৩, রবিবার।
বিবেকানন্দ শতাব্দী জয়ন্তী ভবন
রামকৃষ্ণ মিশন কলিকাতা বিদ্যার্থী আশ্রম বেলঘড়িয়া-৭০০০৫৬.

8th October 2023 Sunday,
Belghoriya Ramakrishna Mission

আজ বেলঘিরিয়া রামকৃষ্ণ মিশন স্টুডেন্ট হোমের বিবেকানন্দ শত বার্ষিকী হলে দিন ভর ঠাকুর, শ্রী শ্রী মা ও বিবেকানন্দের নানান দিকের নানান বিষয় নিয়ে অনেক সুন্দর  বক্তৃতার মাধ্যমে খুব সুন্দর জনকারী হলো।
যে সকল জ্ঞান বই পড়ে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
অনেক আলোচনার মধ্যে দুটি বিশেষ দিকের আলোক পাত আমার বেশ ভালো লাগলো। কারণ আমি বহুদিন যাবৎ এ-হেন ভাব ধারনার চিন্তায় ছিলাম,
কিন্তু কারুর নিকট সেই কথা প্রকাশ করতে পারছিলাম না ।
আজ শ্রদ্ধেয় মহারাজের মুখে শুনলাম এমন কিছু কথা, যে কথা গুলি আমার মনের অনেক চিন্তা দূর করে মনকে শান্ত করেছে।
কথা গুলো সকলেই হয়তো মানেন বা জানেন কিন্তু কতজন সেই কথার ভাব ও সত্যতা উপলব্ধি করেন সেটার বিষয়ে আমি সন্দিহান ছিলাম। আজ কিন্তু আমার মনের সেই সন্দেহের মেঘ কেটে গেছে।
হ্যাঁ আজ বুঝতে পারছি, যা চীর সত্য তা সকলের নিকট একদিন উদ্ভাসিত হবেই হবে। সত্য চাপা থাকতে পারে না।

শ্রদ্ধেয় মহারাজ সুন্দর করে তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রমান করে বুঝিয়ে দিলেন যে
শ্রী শ্রী মা সারদা সত্যিকারের মা কালী।
তিনিই হিমালয় পত্রি সতী, তিনি ই মা দুর্গা , মা কালী, মা সরস্বতী।
একমাত্র বিবেকানন্দ ই জ্যান্ত দুর্গার দর্শন করেছিলেন এবং সকল গুরুভাইদের মা কে প্রণাম করা শিখিয়ে ছিলেন।
তাইতো শ্রী শ্রী ঠাকুর নিজে মাকে মাতৃ রূপে পূজা করেছিলেন।
মা নিজেই স্বয়ং নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনিই মা কালী। তিনিই জগৎ জননী মা আমাদের সকলের মা। সত্যি কারের মা ।মে সেদিনও ছিলেন আজও আছেন।
আছেন আমাদের সকলের হৃদকমলে ঠাকুর ও মা উভয়েই অধিধাষ্ঠী হয়ে বসে আছেন।
আজ আমার মবের সকল দ্বিধা দূর হলো।
আজকেই আমি নিজেকে খুঁজে পেলাম।

Friday, February 2, 2024

17>|| জপ কি ?::--স্বামী বীরেশ্বরানন্দ

  17>|| জপ  কি ?::--স্বামী বীরেশ্বরানন্দ ||


জপ কি ? 

"ঈশ্বরের কোন বিশেষ মূর্তি যিনি আমার ইষ্টদেবতা তাঁর নাম বা মন্ত্র পুনঃপুনঃ আবৃত্তি করার নাম জপ।" 


মন্ত্র মানে কি ? "যা আমাদের মনকে বাইরের জগৎ থেকে টেনে এনে ভগবৎ পাদপদ্মে ধরে রাখে তাই হচ্ছে মন্ত্র।" 


আর বীজমন্ত্র হচ্ছে---"যে-মন্ত্র জপের দ্বারা অন্তরের আধ্যাত্মিক শক্তির স্ফুরণ হবে, যে শক্তির জোরে মানুষকে আস্তে আস্তে ভগদ্দর্শনের দিকে নিয়ে যাবে।"


   সেইজন্য জপ করাটাই হচ্ছে মুখ্য জিনিস। জপের ভিতর যে বীজমন্ত্র তার মধ্যে তোমার সমস্ত আধ্যাত্মিক শক্তি আছে। জপ না করলে সেই শক্তির স্ফুরণ হবে না। সেইজন্য শুধু 108-বার জপ করলে কি করে এগুনো যাবে ? বেশি জপ করতে হবে। কিন্তু অনেকেরই হয়তো সংসারের নানা কাজের জন্য বেশি সময় থাকে না। তাদের জন্য বলা হয়েছে, সবসময় তোমরা মনে মনে জপ কর। তোমাদের কাজকর্মের ভিতরে মনে মনে জপ কর।


স্বামী বীরেশ্বরানন্দ