31>"সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ" ।।
এর অর্থ : সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও । আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করবো । তুমি শোক করো না ॥গীতা ১৮ অধ্যায় ৬৬ শ্লোক।
31>"সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ" ।।
এর অর্থ : সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও । আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করবো । তুমি শোক করো না ॥গীতা ১৮ অধ্যায় ৬৬ শ্লোক।
30>|| "ওঁ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ---"
"ওঁ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ
সর্বে ভদ্রাণী পশ্যন্তু মা কশ্চিদ দুঃখ ভাবভবেৎ।।"
অর্থ- সকলে সুখী হোন,নিরোগ হোন এবং শান্তি লাভ করুন, কেউ যেন দুঃখ ভোগ লাভ না করে।।
ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি।।
ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্ব ধর্ম স্বরূপিণে।
অবতার বরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ ।।
ওঁ যথাগ্নের্দাহিকাশক্তিঃ রামকৃষ্ণে স্থিতা হি য়া।
সর্ববিদ্যাস্বরূপাং তাং সারদাং প্রণমামি-অহম্।।
ওঁ জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণে জগদগুরুম্।
পাদপদ্মে তয়োঃ শ্রিত্বা প্রণামামি মুর্হুমুহুঃ৷।
ওঁ নমঃ শ্রীযতিরাজায় বিবেকানন্দ সুরয়ে।
সচ্চিৎ সুখস্বরূপায় স্বামিণে তাপহারিণে।।
【 এই শ্লোকের অর্থ হল: "যতিদের রাজা, বিদ্যার আলো, যিনি সত্য, চিৎ (জ্ঞান), এবং আনন্দ স্বরূপ, যিনি স্বামী এবং যিনি তাপ (কষ্ট) হরণ করেন, সেই বিবেকানন্দের উদ্দেশ্যে প্রণাম।"
এই শ্লোকে, স্বামী বিবেকানন্দকে 'যতিরাজ'---> (যতিদের রাজা), 'বিবেকানন্দ সুর'--> (বিবেকানন্দের আলো),
'সচ্চিৎ সুখস্বরূপ'---> (যিনি সত্য, জ্ঞান ও আনন্দ স্বরূপ),
এবং 'তাপহারী'---> (দুঃখ দূরকারী) হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই শ্লোকটি মূলত স্বামী বিবেকানন্দের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদনের একটি মন্ত্র। 】
ওঁ পরতত্ত্বে সদালীনো রামকৃষ্ণসমাজ্ঞয়া।
যো ধর্মস্থাপনরতো বীরশং তং নমাম্যহম্।।
【এই শ্লোকটির অর্থ হল: যিনি পরতত্ত্বে (পরম সত্যে) সদা লীন এবং রামকৃষ্ণের আজ্ঞা দ্বারা ধর্ম সংস্থাপনে রত, সেই বীরকে আমি প্রণাম করি।
অর্থাৎ, শ্লোকটিতে পরম সত্যের সাথে একাত্ম হওয়া এবং শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শে ধর্ম সংস্থাপনে রত একজন বীরকে প্রণাম জানানোর কথা বলা হয়েছে।
এই শ্লোকের মূল শব্দগুলির অর্থ:
ওঁ: -->একটি পবিত্র মন্ত্র যা ঈশ্বরের প্রতীক।
পরতত্ত্বে:--> পরম সত্য বা সর্বোচ্চ সত্য।
সদালীনো:--> সর্বদা নিমগ্ন বা যুক্ত।
রামকৃষ্ণসমাজ্ঞয়া:--> শ্রীরামকৃষ্ণের আজ্ঞা বা নির্দেশ অনুসারে।
যো:--> যিনি।
ধর্মস্থাপনরতো:--> ধর্ম প্রতিষ্ঠায় রত।
বীরশং:--> বীরকে, সাহসী ব্যক্তিকে।
তং:--> তাকে।
নমাম্যহম্:--> আমি প্রণাম করি।】
জয় ভগবান রামকৃষ্ণদেব কী জয়,
জয় মহামায়েকী জয়,
জয় স্বামীজি মহারাজ কী জয়,
জয় গুরু মহারাজ কী জয়,,,
=========================
29>|| কৃপা লাভের উপায় ||
কৃপা কিভাবে আসে ?
_শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের একটি গল্প আছে::--
ভগবতী হিমালয়ের ঘরে তাঁর কন্যা হয়ে জন্মেছেন , কন্যার মতোই হেসে খেলে বেড়াচ্ছেন। একদিন হিমালয় তাঁকে বললেন , ' তোমাকে তো আমি আমার কন্যারূপেই দেখছি , তোমার স্বরূপ কি তা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে।' জগজ্জননী তাঁকে বললেন , ' বাবা , আমার স্বরূপ যদি প্রত্যক্ষ করতে চাও , তাহলে মুনিঋষিরা যেমন আমার স্বরূপ প্রত্যক্ষ করার আগে জন্ম-জন্ম ধরে তপস্যা করেছিলেন , তোমাকেও তাই করতে হবে। আমি তোমার কন্যা হয়ে এসেছি বলেই যে তুমি তা প্রত্যক্ষ করতে পারবে , তাই হয় না।' আধ্যাত্মিক জীবনে এইটিই সত্য ! আমরা যখন আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে ভগবানলাভ করতে চাই , তখনই তিনি কৃপা করেন , তাছাড়া নয়।_
_কৃপা কিভাবে আসে তার আর একটি গল্প আছে --- দুটি পাখির গল্প। পাখি দুটি সমুদ্রের বেলাভূমিতে ডিম পেড়েছিল। ডিম সেখানেই রেখে তারা খাদ্যের সন্ধানে বেরুলো। ফিরে এসে দেখে সেই ফাঁকে সমুদ্রের ঢেউ এসে ডিম দুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। দেখে খুব রাগ হলো তাদের ; তারা স্থির করলে , সমুদ্রের জল শুষে ফেলে ডিম দুটি ফিরিয়ে আনবে। তখনই কাজে লেগে গেল --- ঠোঁটে করে জল এনে বালির উপর ফেলতে লাগল। দিনরাত একইভাবে এই কাজ চললো। সমুদ্রের দেবতা বরুণদেব এদের কাণ্ড দেখে দুঃখ পেয়ে কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন , " কি করছ তোমরা ?" পাখি দুটি বলল , " সমুদ্র আমাদের ডিম ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা ডিম দুটি ফিরে পাবার জন্য সমুদ্রকে শুকিয়ে দেবার চেষ্টা করছি।" তাদের অধ্যাবসায় ও সঙ্কল্পের দৃঢ়তা দেখে বরুণদেব ডিম দুটি ফিরিয়ে দিলেন।_
- স্বামী বীরেশ্বরানন্দ
(তথসূত্রঃ👉 ভগবানলাভের পথ)
➖➖➖➖➖