21>|| শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ সংহতির প্রতীক,
তাঁর মন ও হৃদয় সর্ব ধর্মের মিলন ভূমি।
তিনিই দেখিয়েছেন অমৃত লাভের পথ,
যে পথে মানুষ জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান "অমৃতের জন্তান" রূপে নিজেকে প্রকাশ করতে সক্ষ্যম হয়।
ঠাকুর বলতেন যেন তেন প্রকারে ঈশ্বরেকে লাভ করো। ভগবান কে লাভ করাই মানুষের শ্রেষ্ঠ পথ।
নিজের অন্তঃ পুরের খোঁজ করা একান্ত কর্তব্য। মানুষের অন্তরেই রয়েছে সপ্ত সাগর ●1-জ্ঞান,●2-প্রেম,●3-পবিত্রতা, ●4-মৈত্রী ●5-সৌহাদ্য, ●6-ঐক্য ও ●7-উদারতা।
এই সপ্ত সাগরের খোঁজ করতে পারলেই মানুষ ক্রমে হয়ে ওঠে "মানহুঁশ" অর্থাৎ "হুঁশ"-যুক্ত "মানুষ", অর্থাৎ চৈতন্য যুক্ত মানুষ।
তবে এমন প্রকারে লাভ না করতে পারলে মানুষ ক্রমে অসৎ ও স্বার্থপরতার দিকে এগিয়ে যায়। নীতিহীন হয়ে সমাজসভ্যতার পক্ষে অশনিসঙ্কেত ডেকে আনে।
মানুষ যে কত সুন্দর ও শাশ্বত হতে পারে তার প্রকৃত উদাহরণ ঠাকুর নিজে।
ঠাকুর বুঝিয়ে দিয়েগেছেন মানুষের লক্ষ্য কী। সভ্যতা তথা সমাজের লক্ষ্য কী, প্রকৃত আনন্দ কী, মানুষ কীভাবে উপভোগ করতে পারে প্রকৃত আনন্দ।
"যত মত তত পথ"--->
প্রত্যেক সাধককে তার নিজের সাধন পথ নিজেকে খুঁজে নিতে হয়। শাস্ত্র, ধর্মগ্রন্থ, সাধুসন্তরা কিছুটা সাহায্য করতে পারেন, কিন্তু নিজের পথ নির্বাচন নিজেকেই করতেহয়।
সেইক্ষেত্রে নিজের পাপকর্মের অনুশোচনা
করার থেকে নিজের শুদ্ধ-বুদ্ধ-মুক্ত-আত্মস্বরূপের চিন্তা করা অনেক বেশি কল্যাণ কারী।
সংসার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সংসার ত্যাগ করার দরকার হয় না। বরঞ্চ সংসারে থেকেই ঈশ্বর চিন্তা করে যদি মনকে ভগবন্মুখী করা যায় তবে সংসারে আসক্তি আপনা থেকেই কমতে থাকে।
সাধন পথে বাধাবিপত্তি আসবেই তবে সেগুলির বেশি গুরুত্ব না দেওয়াই শ্রেয়।
ক্রমাগত ভগবানের কথা চিন্তা করতে করতে বাধাগুলো আপনা থেকেই দূর হয়ে যায়। জোড়করে দূর করতে হয় না বা উচিতও নয়।
========================
আসলে সৎ--চিৎ--আনন্দ, অস্তি--ভাতি--প্রিয়, বা সত্যম--শিবম--সুন্দরম একই সত্তার তিনটি বভিন্ন দিক। একে অপরের থেকে পৃথক নয়। শব্দের ব্যবহার ভেদে এদের প্রথক বলে মনে হয়। যা জ্ঞান তা-ই আনন্দ, আর যা নিত্য তাও আনন্দ, এই তিনটিই আমাদের আত্মার যথার্থ স্বরূপ, নিজের আত্মাস্বরূপ, আনন্দময় স্বরূপের সাক্ষাৎ করাই জীবনের লক্ষ্য, এই উপলব্ধি ব্যতীত শাশ্বত সুখ বা শান্তিলাভ সম্ভব নয়।
No comments:
Post a Comment