25>★★ রামকৃষ্ণ মঠ/ ঠাকুরের কথা ||(1 to 5)
1> মঠ, মন্দিরে গিয়ে মনকে ঈশ্বর মুখীই রাখতে হয়।
2>শ্রীরামকৃষ্ণ সাধনার সার কথা।
3>|| ধর্মের অর্থ এবং প্রথার মানে ||
4> "শ্রীশ্রীমায়ের আদেশ পাওয়ার প্রক্রিয়া"
==============================
1> মঠ, মন্দিরে গিয়ে মনকে ঈশ্বর মুখীই রাখতে হয়।
"একজন ভক্ত বেলুড় মঠে এসে, এক প্রবীণ মহারাজ কে বললেন "আজকাল আমার আর মঠে আসতে ভালো লাগে না I"
মহারাজ শান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করলেন, " কারণটা কি জানতে পারি ?"
ভক্তটি বললেন, "মন্দিরের চার পাশের পরিবেশ আমার এখন আর ভালো লাগে না I এখানে এসে দেখি, মোবাইল টিপে টিপে দেখা, গল্প, অন্তরঙ্গ আড্ডা দেখি, এসব আমার মোটেই ভালো লাগে না I"
মহারাজ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, "আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার আগে আমার একটা কথা রাখবেন ?"
ভক্তটি বললেন, "কি বলুন" I
মহারাজ বললেন, "একটি জলভর্তি গ্লাস হাতে নিয়ে আপনাকে মূল মন্দির থেকে গঙ্গার স্নানের ঘাট হয়ে, মায়ের মন্দির আর মূল মন্দির দুবার প্রদক্ষিণ করতে হবে !
শর্ত একটিই, গ্লাস থেকে এক ফোঁটা জলও যেন বাইরে না পড়ে I"
ভক্তটি বললেন, "নিশ্চয় পারবো "I
ভক্ত টি জলপূর্ণ গ্লাস হাতে নিয়ে পুরো প্রদক্ষিণ দু বার সম্পন্ন করলেন, এবং সব সময়েই নজর রাখলেন যাতে এক ফোঁটা জলও গ্লাস থেকে নিচে পড়ে না যায় I
প্রদক্ষিন শেষ করে মহারাজের কাছে গেলে, উনি ভক্ত টিকে প্রশ্ন করলেন--
আপনি প্রদক্ষিণের সময়, কাউকে মোবাইল টিপতে বা গল্প করতে বা কাউকে কোনো আপনার অপছন্দের কাজ করতে দেখেছেন ?
ভক্তটি বললেন, "আমি এসব কিছুই লক্ষ্য করতে পারিনি, কারণ আমার মনোযোগ জলের গ্লাসের ওপরেই ছিল, যাতে এক ফোঁটা জলও গ্লাস থেকে না পড়ে I"
মহারাজ হেসে বললেন, "আপনি যখনই মঠ প্রাঙ্গণে এসেছেন, যে মূল উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন এখানে, তাতে পূর্ণ মনোযোগ থাকলে, দেখবেন অন্য অপ্রিয় জিনিস, আপনার নজরে আসবেই না ।
#সংগৃহিত#
==============================
2>শ্রীরামকৃষ্ণ সাধনার সার কথা।
পূজনীয় স্বামী ভূতেশানন্দ জী :: আমরা ভগবানের নাম করব। কত হাজার জপ করব, কতক্ষণ ধ্যান করব – এটি বড় কথা নয়।
কেউ হয়তো নিরামিষ খায়,
কেউ হয়তো এক বস্ত্রে থেকে ভগবানের জন্য তপস্যা করে।
সেসব কিন্তু কিছুই কিছু নয়, যদি না সেগুলিতে আন্তরিকতা থাকে।
আসল কথা হচ্ছে, আমাদের সমস্ত অন্তর দিয়ে ভগবানকে ভালবাসতে পারছি কি না তা দেখতে হবে......
যে ভালবাসায় সংসারের অন্য সমস্ত আকর্ষণ তুচ্ছ হয়ে যাবে। এই কথাটি মনে রাখতে হবে।
ভাগবতে বলেছে,
তাঁর প্রতি যে অনুরাগ তা জগতের অন্য সব অনুরাগকে ভুলিয়ে দেয়। সুতরাং তাঁর প্রতি আমাদের ভালবাসা কতখানি হলো – এই বিচার করে আমাদের সাধনপথে হাটতে হবে।
আমরা তাঁর নামে মুহুর্মূহু মূর্ছা গেলেও কিছু হবে না বা আমাদের সমস্ত জীবনটা বসে বসে ধ্যান করলেও হবে না, বছরের পর বছর লক্ষ লক্ষ জপ করলেও হবে না। তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়ালেও হবে না।
হবে তখন, যখন দেখব তিনি আমাদের অন্তরকে সর্বদা পরিপূর্ণ করে রয়েছেন। তিনি ভিন্ন আর কোনো চিন্তা বা বস্তু বা ব্যক্তির সেখানে স্থান নেই।আমাদের অন্তরের পূর্ণ অনুরাগ তাঁকে দিতে হবে। তাঁর চরণে নিজেদের পরিপূর্ণভাবে সমর্পণ করতে হবে।
এটিই শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনার সারকথা।
..............স্বামী
ভূতেশানন্দ
============================
3>|| ধর্মের অর্থ এবং প্রথার মানে ||
প্রশ্নঃ ধর্মের অনেক নিয়ম আজকাল কেউ-কেউ মানতে চাননা। এতে কি ধর্মের ক্ষতি হবে না?
#স্বামী_সোমেশ্বরানন্দ
●●● বিজ্ঞানের সূত্র কেউ যদি না মানে তবে বিজ্ঞানের কোনো ক্ষতি হয় কি? না। হিন্দুদের মধ্যে অনেক প্রথা সময়ের সাথে বদলেছে।স্বামীর মৃত্যুর পর মহিলারা আজ সাদা শাড়ি পরেন না, পাশ্চাত্যে বাঙালিরা দুর্গাপুজো সুবিধামতো কোনো রবিবারে করেন, একাদশীতে অনেক মানুষই উপোস করেনা, শবদেহ কাঠের আগুনে না জ্বালিয়ে ইলেকট্রিক চুল্লিতে পোড়ানো হয়। এজন্য ধর্মের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি? না। প্রথা বদলালেই ধর্ম নষ্ট হয়না।কেন?
আগে বুঝুন ধর্মের অর্থ এবং প্রথার মানে কি।
ধর্ম কি? স্বামীজির ভাষায়ঃ অন্তর্নিহিত দেবত্বের প্রকাশই ধর্ম (Religion is the manifestation of divinity already in man)। পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্ব এবং সেখান থেকে দেবত্বে ওঠাই ধর্ম। আরো ব্যাখ্যা করে বলেছেন তিনি -- "প্রতিটি জীবই স্বরূপত দিব্য স্বভাব সম্পন্ন। জীবনের লক্ষ্য বাইরের ও ভেতরের প্রকৃতিকে জয় করে অন্তর্নিহিত দেবত্বকে প্রকাশ করা। কর্ম, উপাসনা, মন:সংযম অথবা জ্ঞান-- এর মধ্যে একটি, একাধিক বা সবকটির সাহায্যে অন্তরের সেই দেবত্বকে বিকশিত করো এবং মুক্ত হও। এটাই ধর্মের সার। মতবাদ, আচার-অনুষ্ঠান, শাস্ত্র, মন্দির বা অন্যান্য বাহ্য ক্রিয়াকলাপ হলো ধর্মের গৌণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মাত্র।"
তাহলে ধর্মের মূল উদ্দেশ্য কি? দিব্য স্বভাবের প্রকাশ। আর প্রথাগুলি, পারিবারিক-সামাজিক ঐক্য ধরে রাখার নিয়ম। এই নিয়মগুলি যুগেযুগে পাল্টায় যার প্রমাণ স্মৃতিশাস্ত্র সমূহ।
অতএব প্রথা বা আচার-অনুষ্ঠান বদলে গেলে দু:খ করে লাভ কি? শুধু দেখতে হবে এই পরিবর্তন সমাজের ক্ষতি না করে। অনেক সময়ই পরিবর্তন বিকাশের লক্ষণ, যেমন দুর্গাপ্রতিমায় নতুন-নতুন ভঙ্গি। সৃজনীশক্তির পরিচয় এটা। বর্তমান যুগে মানুষের চাহিদা-প্রয়োজন-পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।এর সাথে প্রথার পরিবর্তনও দরকার। মন্দির-মসজিদে মেয়েদের বাঁধা দেওয়া বৈষম্যের লক্ষণ, অতএব এর বদল ঘটা প্রয়োজন। প্রথা নিয়ে বেশি তর্ক চালালে ধর্মের মূল উদ্দেশ্য ভুলে গৌণ বিষয়ে জড়িয়ে পড়ার বিপদ আছে।
ধর্ম নিয়ে নিজের মধ্যে প্রশ্ন উঠলে চিন্তা করো মূল উদ্দেশ্য নিয়ে। দেবত্বের দিকে যাচ্ছো কিনা সেদিকে দৃষ্টি দাও। পথে চলতে গেলে কখনো নদী আসবে, কখনো বা পাহাড়, কিংবা মরুভূমি-জঙ্গল-শহর। কিন্তু ধ্রুবতারাকে লক্ষ্য করে চললে যেমন পথ ভুল হয়না, তেমনি "অন্তরের দেবত্ব"-কে মূল লক্ষ্য করে চললে প্রথাগুলি নিয়ে বিভ্রান্তি আসবেনা।
আমি কতটা ধার্মিক হয়েছি? অমুক ব্যক্তি কি ধার্মিক? দেখো চেতনার উত্তরণ হয়েছে কিনা,দেবত্ব প্রকাশিত হচ্ছে কিনা। এটাই bottom line, এটাই প্রমাণ ধর্মের।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
4> "শ্রীশ্রীমায়ের আদেশ পাওয়ার প্রক্রিয়া"
" জীবনে যদি কোনো সঙ্কট আসে আমাকে স্মরণ কোরো। নিজেকে কয়েক দিনের জন্য অপর লোকেদের থেকে আলাদা রেখে খুব করে জপধ্যান ও প্রার্থনা কোরো এবং আমার কাছে জিজ্ঞাসা করবে, 'মা, কি করব ?' ঐ সময় অল্প খাবে ; নিজের দেহ-মন পবিত্র রাখবে ; যতটুকু না হলে নয়, ততটুকুই অপরের সঙ্গে কথা বলবে। অপরকে জানতে দেবে না তুমি কি করছ। একমনে এভাবে প্রার্থনা ও সাধনা করে যাবে। কখনো ধৈর্য হারাবে না। যদি দেখ কোনো উত্তর আসছে না, তবে জানবে তোমার মন এখনো সেই স্তরে আসেনি যাতে তুমি আমার আদেশ পাও। ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাকুল হয়ে ডেকে গেলে আমার কাছ থেকে উত্তর পাবে। "
........... স্বামী শান্তানন্দ
( স্বামী শান্তানন্দজী পেয়েছিলেন মায়ের দর্শন ও আদেশ । তিনি ছিলেন একজন অতি উচ্চস্তরের সাধু ও শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরানীর একজন প্রিয় শিষ্য। )
========================
No comments:
Post a Comment