33>||ঠাকুরের উপদেশ::--(আহার ও নিদ্রা সংযম)
আমাদের শাস্ত্রে খাদ্য বিষয়ে একটি সুন্দর উপদেশ আছে—হিতভুক, মিতভুক, ঋতভুক—হিতকারী পুষ্টিকর খাদ্য খাবে, পরিমিত খাবে ও সময়মতো খাবে। ঠাকুরের সাধারণ উপদেশ—যার যা পেটে সয় তা-ই খাও। শ্রীমকে তিনি বলেছিলেন ভাতের সঙ্গে একটু ঘি মেখে খেতে এবং শেষে দুধ খেতে।
আহার সংযমের সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুর নিদ্রা সংযমেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। লাটু মহারাজ কুস্তি করতেন, সেজন্য একটু ঘুমকাতুরে ছিলেন। একদিন তিনি সন্ধ্যা বেলায় ঘুমিয়ে পড়েন। তাতে ঠাকুর গম্ভীর ভাবে বলেন, "হ্যাঁরে ! এখনই যদি ঘুমোবি, তবে জপধ্যান করবি কখন ? রাত নটা বাজে নি, এরই মধ্যে ঘুমোচ্ছিস ! কোথায় তুই রাতভর ধ্যান করবি, ধ্যান করতে করতে কখন যে রাত কেটে যাবে জানতে পারবিনি, তা না, এরই মধ্যে ঘুমে চোখ ঢুলে পড়ছে ! তুই কি এখানে শুধু ঘুমোতে এসেছিস?" এই বকুনি খেয়ে লাটু মহারাজ চিরজীবনের জন্য রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়েছিলেন।
লাটু মহারাজ বলেছেন, "উনি (ঠাকুর) বলতেন—'যাগে-যোগে জেগে থাকবি, ঘুমের কালে তাঁকে ডাকবি, কাজের মাঝে তাঁকে ধরবি, আর হরদম্ তাঁর সেবায় লাগবি।'" কি সংক্ষিপ্ত অমূল্য উপদেশ ! 'যাগে-যোগে জেগে থাকবি' অর্থাৎ সদাসর্বদা তাঁর দিকে মন ফেলে রাখবি। 'ঘুমের কালে তাঁকে ডাকবি'—রাত্রে নির্জনে তাঁকে ডাকবি; মনে তামস ভাবের উদয় হলেই তাঁকে ডাকবি। 'কাজের মাঝে তাঁকে ধরবি'—কোন কাজেই নিজের অহংকারকে বাড়তে দিবি না । 'হরদম্ তাঁর সেবায় লাগবি'—বৃথা আলস্যে দিন কাটাবি না, সদাসর্বদা তাঁর কাজ নিয়ে মশগুল থাকবি। 🙏🙏🪷🪷🙏🙏
—(ধ্যানলোকে শ্রীরামকৃষ্ণ, ধ্যানতত্ত্বে কৃষ্ণ ও রামকৃষ্ণ, পৃ. ৩৯১-৩৯২
(আহার ও নিদ্রা সংযম)
No comments:
Post a Comment