37> || পূণ্যভূমি ভারতবর্ষ ||
শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব--
(18/02/1836 ---16/08/1886)
শ্রী শ্রী মা সারদা দেবী--
(22/12/1853---20/07/1920)
আজ 1951 সালে ঘটে যাওয়া দুটি চিরস্মরণীয় ঘটনার কথা একটু বলবো।
আমাদের আনন্দপূর্ন প্রার্থনা করা এবং চিরস্বরণীয় সেই বিশেষ দিন হল
11 ই মে 1951 শঙ্করপঞ্চমীর দিন।
এইদিনেই ঘটেছিল বিশেষ কিছু পূণ্য কর্ম যে পূণ্য কর্মের আশীষে ধন্য আমরা, ধন্য আমাদের পূণ্যভূমি ভারতভূমি।
এই 11 মে 1951 শঙ্করপঞ্চমীর দিনটি
শঙ্করাচার্য ও রামানুজাচার্যের জন্ম তিথি।
এ-হেন বিশেষ দিনেই সংগঠিত হয়ে ছিল দুই মহান পূণ্য কর্ম।
প্রথমটি-- ইতিহাস থেকে জানতে পারি যে গজনীর সুলতান মামুদ সোমনাথের শিবমন্দিরকে ভেঙে লুট করে, তছনছ করে দিয়েছিল 1025 সালে।
সেই সোমনাথ মন্দির আবার পুনঃনির্মিত হয়েছে এই বিশেষ দিনেই--
"নবনির্মিত মন্দিরে নয়শো পঁচিশ বছর পরে পুনঃঅধিষ্ঠিত হয়েছেন সোমনাথে শিবজী ওই 11 মে 1951 তারিখেই। 'বেদান্ত কেশরী' তাই ওই তারিখটিকে বর্ণনা করেছিলেন ভারতের 'নতুন মে দিবস'
বলে।"
দ্বিতীয়টি:--11 মে1951 কামারপুকুর শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠার তারিখ।
"ধন্য কামারপুকুর। তুমি এ যুগের শ্রেষ্ঠ তীর্থ; ভগবানের পদযুগল বক্ষে ধারণ করিয়া তুমি মহাপুণ্যভূমিতে পরিণত হইয়াছ। বহু মানুষের মনের কথা যথোপযুক্ত এই ভাবে ও ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছিল উদ্বোধন পত্রিকা, তার 1353 রের অক্টোবর সংখ্যায়, কামারপুকুরের মন্দির প্রতিষ্ঠার উৎসবের বিবরণ প্রকাশ করতে গিয়ে।"
জমিদারের অসৎ ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে সচ্ছল ব্রাহ্মণ ক্ষুদিরাম রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে যখন সপরিবার দেরেগ্রাম ছাড়লেন।
তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু কামারপুকুরের সুখলাল গোস্বামী। জিনি নিজ সম্পত্তির এক অংশে চিরকালের জন্য আশ্রয় দিলেন একান্ত বন্ধু সৎজন ক্ষুদিরামকে।
যেটি আমাদের হৃদয়ের কাছেই
আমাদের হৃদস্পন্দনে সর্বদা অনুভূত হয়।
"শান্তির শ্রীনিকেতন শ্রীরামকৃষ্ণের পৈতৃক ভিটা। কিন্তু সে স্থানটি আজ চেনা দুষ্কর। অতি মনোরম এক মন্দির-সেখানে গড়ে উঠেছে সেই ঢেঁকিশালটির উপর, যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ।..."
"মন্দির-প্রতিষ্ঠা উৎসব হয়েছিল এই
11 মে 1951 তারিখে। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ অঙ্গ হচ্ছে পূজা-অনুষ্ঠান। বিরাট পূজাপর্ব চলেছিল তিনদিন ব্যাপী। প্রতিষ্ঠার আগের দিন সন্ধ্যায় অধিবাস, তারপর যাগযজ্ঞ, হল-রুদ্রযাগ, সপ্তশতী হোম, কালীপূজা, গভীর নিশীথে দশমহাবিদ্যার পূজা প্রভৃতি বহুবিধ অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপ দিবারাত্র মুখর হল। পূজামণ্ডপটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, মঙ্গলঘট, বিরাট হোমকুণ্ড, মণ্ডপের উপরের নানা রঙের পতাকা প্রভৃতিতে একটি অপরূপ আবহাওয়ার সৃষ্টি হল। শ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্ঘের বিশিষ্ট পূজকেরা এসেছেন ব্রতী হয়ে, এসেছেন কাশীধাম থেকে দক্ষ পুরোহিতেরা-তাঁদের ছন্দোবদ্ধ শুদ্ধ সংস্কৃত উচ্চারণে প্রাচীনকালের সামগান মুখরিত আশ্রমপ্রাঙ্গণের কথা কারু মনে পড়েছিল।..."
১০ মে রাত্রিবেলাতেই উপস্থিত সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হল যে,,--"পরের দিন মঙ্গল উষায় মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হবে। রাত পোয়াতেই সকলেই প্রস্তুত সেই শুভক্ষণটির জন্য। মন্দির প্রদক্ষিণ করে [করতে?] একটি শোভাযাত্রা বেরুল, সন্ন্যাসীরা রয়েছেন পুরোভাগে, গান আরম্ভ হোল, 'এসেছে আজ নতুন মানুষ দেখবি যদি আয় চলে।' ঐ নতুন মানুষটিরই মর্মর বিগ্রহ রয়েছেন মন্দিরের ভেতরে।”------ "মন্দির প্রদক্ষিণ আরম্ভ হল, পূজ্যপাদ স্বামী শঙ্করানন্দী নিয়েছেন - আত্মারামকে, বিশুদ্ধানন্দজীর মাথায় রয়েছেন শ্রীশ্রীঠাকুরের ছবি, যতীশ্বরানন্দজী নিয়েছেন শ্রীশ্রীমাকে,
আর আত্মপ্রকাশানন্দজীকে দেখা যাচ্ছে স্বামীজীর ছবি মাথায় নিতে। গানের সহযোগে মন্দির তিনবার প্রদক্ষিণ করা হল। এরপর গর্ভমন্দিরের দ্বার খুলে গেল-জয় শ্রীগুরু মহারাজজী কী জয়, জয় মহামায়ী কী জয়, জয় স্বামীজী মহারাজ কী জয় প্রভৃতি জয়ধ্বনি সহ মহারাজরা মন্দিরে প্রবেশ করলেন। সঙ্ঘাধ্যক্ষের শ্রীহস্ত থেকে প্রাপ্ত 'আত্মারামের কৌটা' পূজ্যপাদ স্বামী শঙ্করানন্দজী মহারাজ তাঁরই প্রতিনিধিস্বরূপ মন্দির অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠা করলেন।"----- “শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমা ও স্বামীজীর ছবি রাখা হল মন্দিরের সামনে পূজামণ্ডপে।”--------
"শিল্প-বোদ্ধা আর এক প্রত্যক্ষদর্শী সন্ন্যাসী বর্ণনা করেছেন মন্দির ও বিগ্রহের নান্দনিক বৈশিষ্ট্যগুলি :----
"সরলরৈখিক এবং কৌণিকভাবে এটি একটি অনন্যসুন্দর স্থাপত্যকীর্তি। এটি অতীতের অনুকরণমাত্র নয় বা একটি স্থাবর ধারণাও নয়। এটি একটি মৌলিক কীর্তি, যা সম্ভবত ভারতীয় স্থাপত্যের ধরনে একটি নতুন গতিশীলতার সূচনা। মন্দিরটির সৌন্দর্য প্রধানত তার সরলতা এবং আলঙ্কারিক অনাড়ম্বরতার মধ্যে নিহিত। শিবলিঙ্গের আকৃতিতে গঠিত চূড়াটি অসাধারণ অভিব্যক্তিপূর্ণ। শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মের ঠিক পূর্বে যুগী শিবের থেকে উদ্ভূত উজ্জ্বল আভা শ্রীরামকৃষ্ণের মাতা চন্দ্রাদেবীর শরীরে লীন হয়ে যায়, যা ঐশ্বরিক সন্তানের পৃথিবীতে আগমনের ইঙ্গিত দিয়েছিল, মন্দির চূড়ায় প্রতীকীভাবে তাঁকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মন্দিরটি ধূসর চুনার পাথরে শান্ত মর্যাদা দিয়েছে এবং তাকে শ্রীরামকৃষ্ণের পৈতৃক বাড়ির মাটির কুটির এবং কামারপুকুরের গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। রঘুবীরের জন্য একটি ছোট মন্দিরও তৈরি করা হয়েছে।
এই মন্দিরটিও অত্যন্ত মনোরম এবং পরিবেশের সঙ্গে নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।... শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরের অভ্যন্তরে মনোমুগ্ধকর স্তম্ভ এবং সুন্দর কাঠের আচ্ছাদন সম্বলিত একটি মার্বেল বেদী নির্মিত হয়েছে। উক্ত বেদীর সামনের দিকে একটি ঢেঁকি, একটি উনুন এবং একটি বাতিস্তম্ভের উপরে রাখা প্রদীপের ছবি খোদাই করা রয়েছে। পরিবারের ধান ভানার ঢেঁকিটি যে-ছোট চালাঘরে রাখা থাকত, সেই চালাঘরটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই শিল্প-প্রয়াস;
কারণ --মাটির সেই চালাঘরটিরই এক কোণে শিশু শ্রীরামকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। বেদীতে স্থাপিত হয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণের একটি সুন্দর মার্বেল মুর্তি। মূর্তিটি প্রায় দুই ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চ এবং দেখতে জীবন্ত। মূর্তিটির নির্মাতা কুমারটুলির বিখ্যাত মৃৎশিল্পী ও ভাস্কর শ্রীমণি পাল।""
মন্দির ও বিগ্রহের উদ্বোধনের পর সন্ন্যাসী ও ভক্তদের এক বিরাট শোভাযাত্রা ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর প্রতিকৃতি নিয়ে কামারপুকুর থেকে রওনা হয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের বাল্য ক্রীড়াক্ষেত্র মাণিকরাজার আম্রকাননের দিকে এগোতে থাকে।
অপর দিকে জয়রামবাটি থেকেও এক বিরাট শোভাযাত্রা ঠাকুর ও মায়ের প্রতিকৃতি সহ কামারপুকুরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। বহু সাধু, ভক্ত নরনারী, গায়কের দল, লাঠি ও মাদলসহ নৃত্যরত অসংখ্য সাঁওতাল তাতে যোগদান করতে অবশেষে থাকে। করে। শ্রীশ্রীমায়ের প্রতিকৃতি বহন করে আনছিলেন মহিলারা। উভয় শোভাযাত্রা মাণিকরাজার আমবাগানে মিলিত হলে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। এরপর সম্মিলিত শোভাযাত্রাটি কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের লীলাবিজড়িত প্রতিটি স্থান প্রদক্ষিণ করতে থাকে।
অবশেষে নবনির্মিত শ্রীরামকৃষ্ণ-মন্দির, শ্রীরঘুবীরের মন্দির ও শ্রীরামকৃষ্ণের বাসগৃহ প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রা শেষ হয়। শোভাযাত্রাটির সমগ্র যাত্রাপথে সর্বক্ষণ অগণিত গ্রামবাসী দুপাশে ভক্তিবিগলিত চিত্তে দাঁড়িয়ে মুহুর্মুহু শ্রীরামকৃষ্ণের জয়ধ্বনি দিয়েছিল।
১১ মে-র অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে এসেছিলেন প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ। প্রসাদ বিতরণ চলেছিল দুপুর একটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এবং প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ আনন্দ ও ভক্তি সহকারে প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন। মাইক্রোফোনে ও লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সারাদিন বিভিন্ন ভাষায় শ্রীরামকৃষ্ণের জীবন ও উপদেশ সম্বন্ধে বক্তৃতা, শ্রীরামকৃষ্ণ-পুঁথি ও স্বামীজীর গ্রন্থাবলী থেকে পাঠ এবং ভজন, সংগীত প্রভৃতি চলছিল। সংগীতের মধ্যে কোয়েম্বাতোর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা পরিবেশিত দক্ষিণ-ভারতীয় সংগীত শ্রোতাদের বিশেষ ভাল লেগেছিল। 'ভূতির খাল'-এর কাছে একটি মঞ্চে প্রসিদ্ধ ব্যায়ামবীর বিষ্ণু ঘোষের দল ব্যায়াম প্রদর্শন করেন এবং শ্রীবুদ্ধ বসু কেদারনাথ, বদরিনাথ ও কৈলাস-মানস যাত্রার চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১২ মে অনুষ্ঠিত হয় 'সপ্তশতী হোম'। তিনদিনের সম্মিলিত অনুষ্ঠানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার নরনারী যোগদান করেছিলেন। গ্রামবাংলায় যাত্রা অত্যন্ত জনপ্রিয়, তাই বিখ্যাত 'হাওড়া সমাজ'কে আনা হয়েছিল যাত্রাভিনয়ের জন্য। মন্দিরের সামনের বিরাট মঞ্চে ১১ মে রাতে তাঁরা পরিবেশন করেন 'নদের নিমাই' এবং ১২ মে 'নীলাচলে শ্রীচৈতন্য।' অভিনয় ও পরিবেশনা অতীব উচ্চমানের হলেও সাধারণ গ্রামবাসীরা শহরে শিল্পীদের নাটকীয় উৎকর্ষ অনুধাবন করতে পারে না। তারা বলতে থাকে "রাজা নেই, মন্ত্রী নেই, ঢাল-তলোয়ার নেই, যুদ্ধ নেই-এ কোন্ দেশী
যাত্রা? একে আবার যাত্রা বলে?" উৎসবের তিনদিন খাওয়া-দাওয়া, অনুষ্ঠান সবকিছু ঘড়ি ধরে হয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি,"
তিনদিনের এই অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান দেখে, সরল গ্রামবাসীরা সন্ন্যাসীদের অলৌকিক শক্তিমান ভেবেছিলেন। তাই সাধুরা যখন উৎসবের পাট চুকিয়ে ফিরে আসছেন, তখন তাঁদের কেউ কেউ সাধুদের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছিলেন: আপনাদের উৎসব তো হয়ে গেল; এবার দয়া করে বৃষ্টির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিন-যাতে আমরা চাষবাস করতে পারি।
পূজ্যপাদ বিরজানন্দজী গুরুতর অসুস্থ থাকায় মন্দির প্রতিষ্ঠার পরদিনই, ১২ মে, শঙ্করানন্দজী বেলুড় মঠে ফিরে আসেন এবং পূজনীয় মহারাজের ঘরে গিয়ে উৎসবের সমস্ত বিবরণ দেন। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে জেনে মহারাজের মুখে গভীর পরিতৃপ্তির চিহ্ন ফুটে ওঠে। তাঁর জন্য শঙ্করানন্দজী ঠাকুরের পূজার যে-নির্মাল্য সঙ্গে এনেছিলেন, পরম শ্রদ্ধায় তিনি তা গ্রহণ করেন। ওই মাসেরই ৩০ তারিখে তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ-সারদাপদে লীন হলেন। পূজনীয় শঙ্করানন্দজী সপ্তম সঙ্ঘাধ্যক্ষ-পদে বৃত হলেন ১৯ জুন ১৯৫১।
কামারপুকুরের মন্দির প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে পরবর্তী কালে শঙ্করানন্দজী বলেছিলেন, "মহারাজ (স্বামী ব্রহ্মানন্দ) আমায় তাঁর ব্যবহৃত একখানি কাপড় ও চাদর দিয়েছিলেন, বলেছিলেন, 'অমূল্য এ দুটো কাছে রেখে দাও-পরে কাজে লাগবে।' আমি যত্ন 144 করে রেখে দিয়েছিলাম। ওই শুভদিনে (১১ মে ১৯৫১) মন্দির ও ঠাকুরের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করলাম ঐকাপড় পরে, চাদর গায়ে দিয়ে। মহারাজকে উপস্থিত দেখলাম ঠাকুরঘরে-ঠাকুরের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। মহারাজের কথা আজ অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল।"
শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তদের মধ্যে কথামৃতকার শ্রীম-ই প্রথম কামারপুকুর দর্শন করেছিলেন। ঠাকুর তখন স্থলশরীরে ছিলেন। শ্রীম সমগ্র কামারপুকুরকে জ্যোতির্ময় দেখেছিলেন। সে-বোধ এতটাই স্পষ্ট একটি বিড়ালকেও জ্যোতির্ময় দেখেছিলেন এবং তাকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেছিলেন পথের উপরেই। 'জ্যোতির জ্যোতি'-কে হৃদিকন্দরে ধারণ করে যে-কামারপুকুর চিরজ্যোতির্ময় হয়ে আছে, সেই পুণ্যক্ষেত্রকে আমাদের নিরন্তর প্রণাম। শ্রীমন্দিরের পঁচাত্তর বছর পূর্তির প্রাক্কালে তাঁকে আমাদের বিশেষ প্রণাম!
======================
|| ঠাকুর ও শ্রী মা ||
ঠাকুর নিজেই খুঁজে নিয়েছিলেন নিজের সহধর্মিনী, সংসারপথে চলার জন্য নয়,তাঁর নিজের ইষ্ট পথের সহায়ক সঙ্গিনী রূপে সাধনার পথে এগিয়ে যাবার জন্য।
উনিশ শতকে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, সারদা দেবীর মাত্র 5 বছর বয়সে
(1859 সালে) তাঁর বিবাহ হয়েছিল, যখন শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের বয়স ছিল 23 বছর।
যদিও সারদা দেবীর 18 বছর বয়সে
তাঁর পিত্রালয় ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে দক্ষিণেশ্বরে আসেন, যখন শ্রীরামকৃষ্ণদেব তাঁর দেহ ও মন ঈশ্বরের সন্ধানে উৎসর্গ করে সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করছিলেন।
ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব ও মা সারদা দেবীর
এই বিবাহ কোনো জাগতিক উদ্দেশ্য নিয়ে হয়নি, বরং এটি ছিল এক পবিত্র আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের নিদর্শন, যা জগতে আদর্শ দাম্পত্য জীবন ও নারী-পুরুষের পবিত্র সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসাবে বিবেচিত হয়।
যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণদেব সারদা দেবীকে ষোড়শী পূজার মাধ্যমে দেবী রূপে পূজা করেছিলেন।
সারদা দেবী রামকৃষ্ণ পরমহংসের পত্নী ও সাধনাসঙ্গিনী হিসেবে রামকৃষ্ণ আন্দোলন ও রাকৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ মাঠের প্রসারে এক অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করেন এবং ভক্তদের কাছে 'শ্রীশ্রীমা' নামে পরিচিত হন।
"সংগ্রহীত"
স্বামী বলভদ্রানন্দের ( সহকারী সাধারণ সম্পাদক রামকৃষ্ণ মঠ ও রসমকৃষ্ণ মিশন) লেখা
"কমারপুকুর শ্রী রামকৃষ্ণ-মন্দিরের পঁচাত্তর বছর" এর কিছু অংশ মাত্র।
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
=======================
No comments:
Post a Comment