43>শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব জিলিপি খেতে ভালো বসতেন:--
শ্রী শ্রী ঠাকুর তাঁর গ্রামের বাড়ির মিষ্টির দোকানের বড় বড় জিলিপি কে বলতেন
'গরুর গাড়ির চাকা'।
আর সেই জিলিপি ঠাকুর পছন্দ করতেন,
বাইরে মচমচে শক্ত ভিতরে সরে টইটুম্বুর
ঠিক যেন ভক্তি রসে ঠাসা।
আজও পাওয়া যায় সেই দোকানে
ভাজা আর মিস্টি রসে ঠাসা,
'গরুর গাড়ির চাকা'।
শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের জীবন ছিল
অতি সরল ও একেবারে সাদা মাটা,
মানুষটির মন ছিল একদম শিশুর মতন।
এক অপূর্ব সরলতা, ভক্তি আর আনন্দের
সংমিশ্রণ। তাঁর এই সহজ-সরল জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার স্বাদ-বিশেষ করে তাঁর জন্মস্থান কামারপুকুরের মাটির গন্ধ আর সেখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন।
এই প্রেক্ষাপটে "জিলাপি” শুধু একটি মিষ্টি নয়, যেন এক টুকরো আবেগ, এক স্মৃতির বাহক। বলা হয়, কামারপুকুরের গরম গরম, রসালো জিলাপি ঠাকুরের খুব প্রিয় ছিল। সোনালি রঙের পাক খাওয়া সেই জিলাপি, চিনির রসে টইটুম্বুর , বাইরে হালকা মচমচে আর ভিতরে নরম-যেন ভক্তির মতোই সরল অথচ গভীর। জিলাপির প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা আমাদের মনে করিয়ে দেয় -আধ্যাত্মিকতার পথ সবসময় কঠোর বা গম্ভীর নয়; তার মধ্যেও আছে আনন্দ, আছে ছোট ছোট সুখের মুহূর্ত। একদিকে তিনি ছিলেন ঈশ্বরচিন্তায় নিমগ্ন, অন্যদিকে এই সাধারণ গ্রাম্য মিষ্টির প্রতি তাঁর আকর্ষণ তাঁর মানবিক ও সহজ সত্তাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
কামারপুকুরের সেই জিলাপি আজও শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্মৃতির জন্য, ভক্তির জন্য, আর ঠাকুরের স্নেহময় উপস্থিতির অনুভূতির জন্য বিশেষ হয়ে আছে। যেন প্রতিটি পাকের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে তাঁর হাসি, তাঁর সরলতা, আর তাঁর অন্তহীন প্রেম।
( সঙ্কলিত)
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
========================
No comments:
Post a Comment